অপরদিকে ৩৬টি কমিউনিটি ক্লিনিকে ৭ মাস ধরে ঔষধ সরবরাহ বন্ধ থাকায় গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবা একেবারে ঝিমিয়ে পড়েছে। অথচ ইউনিয়ন পর্যায়ে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতেই স্থাপিত হয়েছিল ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্র ও কমিউনিটি ক্লিনিক। কেন্দুয়া উপজেলার ৩৬টি কমিউনিটি ক্লিনিকে ৭ মাস ধরে ওষুধ না থাকার ফলে সাধারণ স্বাস্থ্যসেবাপ্রাপ্ত শতশত মানুষ হচ্ছেন সুবিধা বঞ্চিত। তারা সামান্য অসুখ-বিসুখেও উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্স ও প্রাইভেট ডায়াগনস্টিক সেন্টারের উপর নির্ভরশীল হতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে একদিকে যেমন অর্থনৈতিক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন গ্রামীণ জনপদের মানুষ, অন্যদিকে উপজেলার একটি মাত্র স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপর রোগীর চাপ প্রতিদিন বাড়ছে প্রচুর।
সোম ও বুধবার (১১ও ১৩মে) সরেজমিন ঘুরে দেখে এবং স্থানীয়দের সাথে কথা বললে তারা জানায়, উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলো অধিকাংশ দিন তালাবদ্ধ থাকে। কয়েকটি খুললেও সঠিকভাবে ঔষধ সরবরাহ করেন না। কেন্দ্রগুলো অপরিচ্ছন্নতাসহ না না সমস্যায় সেবা নিতে আসা মানুষের অভিযোগের অন্ত নেই। স্থানীয়রা বলেন,স্বাস্থ্য কেন্দ্রের আঙ্গিনা অপরিচ্ছন্ন, শৌচাগার ও পানির অব্যবস্থাপনা আছেই। উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোতে সরকারি ঔষধ উত্তোলন করা হলেও রোগীদের মাঝে সঠিক বিতরণ করা হয় না, এমন অভিযোগও কেউ কেউ করেন। তারা বলেন, ডাক্তার নিয়মিত আসেন না,এলেও কেউ কেউ কিছু সময় পর চলে যান ইত্যাদি। একটি বৃহৎ উপজেলা কেন্দুয়া। এখানে প্রায় ৪লাখ মানুষের বসবাস।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়,১১টি উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্র ও ৩৬ টি কমিউনিটি ক্লিনিক রয়েছে। তার মধ্যে রোয়াইলবাড়ি আমতলা ইউনিয়ন, সান্দিকোনা,মাসকা, চিরাং,দলপা,আশুজিয়া ও বলাইশিমুল ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রে একজন করে উপসহকারী মেডিকেল অফিসার রয়েছেন এবং পাইকুড়া ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে একজন ডাক্তার সরবরাহ করে চালনো হচ্ছে। অপর দিকে নওপাড়া ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্র নদীগর্ভে ধসের কারণে সমস্যা,কান্দিউড়া ইউনিয়ন উপ- স্বাস্থ্য কেন্দ্র জায়গা দখল জনিত কারণে সমস্যা,গড়াডোবা ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্র (এমসিইউসি) স্থাপনা নেই সমস্যা,গন্ডা ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্র (এমসিইউসি) স্থাপনা নেই সমস্যা ও মোজাফফরপুর ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্র জনবল নেই সমস্যায় কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।
এবিষয়গুলো নিয়ে বুধবার (১৩মে) কথা হয় কেন্দুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার মো: নাঈম হাসান এর সঙ্গে। তিনি বলেন,১৩টি ইউনিয়নের ১১টি উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রের মধ্যে ৭টির চিকিৎসক রয়েছেন এবং পাইকুড়া ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রটি আমার হাসপাতাল থেকে একজন ডাক্তার দিয়ে চালাই। উপজেলায় ৮টি উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্র চালু রয়েছে এবং বাকি ৩টি সমস্যা জনিত কারণে বন্ধ রয়েছে। তাছাড়া গত ৭মাস ধরে উপজেলার ৩৬ টি কমিউনিটি ক্লিনিকে ঔষধ সরবরাহ বন্ধ থাকায় স্বাস্থ্যসেবা বিঘ্নিত হচ্ছে। আমরা আমাদের সাধ্যের সর্ব্বোচ্চটা দিয়ে চেষ্টা করে যাচ্ছি স্বাস্থ্যসেবার। তিনি আরও বলেন, আমাদের জনবল সংকটসহ আরও না না সমস্যা রয়েছে,এগুরো হয়ত ধীরে ধীরে সমাধান হবে।
রাখাল বিশ্বাস/কেন্দুয়া
